Site icon The Bangladesh Chronicle

আমি কি এতোই খারাপ ছিলাম, প্রশ্ন জাবির সাবেক ভিসির  জাবি: প্রতিনিধি

 ২৬ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৫৬

 

আমি কি এতোই খারাপ ছিলাম, প্রশ্ন জাবির সাবেক ভিসির

‘বই লিখছি, জীবিত অবস্থায় প্রকাশ পেলে এরা আমাকে-আমার ছেলেশুদ্ধ মেরে ফেলবে’- এমন মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরবগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

গতকাল বুধবার (২৫ জানুয়ারি) শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের ভোট দিতে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থাকাকালীন তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া সবকিছু নিয়ে বই লেখা শুরু করেছেন বলে জানান। তবে বইটি তার জীবিত অবস্থায় প্রকাশিত হলে ছেলেসহ তাকে মেরে ফেলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। 

এসময় বর্তমান প্রশাসনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘তখন ইতিহাস অন্যরকম ছিল। এখন আমি সেই ইতিহাস লিখছি। আমার জীবদ্দশায় আসবে না। লিখে এমন জায়গায় বস্তাবন্দি করে রাখবো যে কেউ পাবে না। আমার জীবদ্দশায় প্রকাশ পেলে এরা আমাকে তো মারবেই, আমার ছেলেকেশুদ্ধ মারবে।’

দেশের প্রথম এ নারী উপাচার্য আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার সময় এত আন্দোলন কেন হয়েছে? এখন একবেলা আন্দোলনও হয় না। প্রো-ভিসি, প্রক্টর কেউ আমাকে প্রোটেক্ট করেনি। আমি কি এতোই খারাপ ছিলাম?’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিয়ে সাবেক এ উপাচার্য বলেন, ‘প্রক্টর আমাকে সেসময় রক্ষা করেননি। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনকে রক্ষা করে যাচ্ছেন। বর্তমান প্রশাসন কীভাবে এসেছিল? প্রো-ভিসি কীভাবে হয়েছেন তিনি। তিনি ভিসি হওয়ার সময় আমি কী তার জন্য সুপারিশ করিনি?’

তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুদক তদন্ত করেছে না কে করেছে, কোন দিল আফরোজা বেগম (ইউজিসি সদস্য) কী বলেছে সেসব আমার কানে এসেছে। উনি তো আমাদের সবকিছুতেই বাধা দেন। দর্শন বিভাগে ছয়জন শিক্ষক নিয়োগের বোর্ডটাকে তিনি বাধা দিয়েছিলেন নিয়মকানুন জানেন না বলে। আমরা হাইকোর্টে আপিল করে সেটা ছাড় পাই। সবসময় যে ইউজিসির মেম্বাররা আমাদের চেয়ে বেশি জানেন এটা নয়। কেননা উনারা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে পড়েনই না। পাবলিক ইউনিভার্সিটির স্ট্যাটিউটগুলোর কিছু জানেনই না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দুটি অংশ একীভূত হওয়ার বিষয়ে ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘দুটি অংশ ভেতরে ভেতরে এক ছিল। এখন প্রকাশ্যে এক হওয়ার অনুমতি পেয়েছে। অনেক সময় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা হয়তো অনুমতি দেন না বলে এক হতে পারে না। কিন্তু আদর্শগত দিক থেকে তো আগ থেকেই এক ছিল। এখন একটা সুযোগ হয়েছে এক হওয়ার, এটা ভালো।’

অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে তার সময়ে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুই কোটি টাকা যেটা ছাড়ই হয় নাই তখন পর্যন্ত, সেইটা আমি খরচ করে ফেললাম আমার হাত দিয়ে এইটা বলা তো ঠিক না। সেইটা যদি আমার সময়কালে কেউ করে থাকে কাউকে খুশি করতে, এর দায়-দায়িত্ব তো আমি নেব না।’

প্রসঙ্গত, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ২০১৪ সালের ২রা মার্চ প্রথম মেয়াদে উপাচার্য পদে নিয়োগ পান। প্রথম মেয়াদকাল শেষ হওয়ার আগেই ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হন তিনি। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে দুর্নীতি ও অনিয়মের নানা অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনা ও ভিসিবিরোধী আন্দোলনের তোপের মুখে পড়েন।

বিডি প্রতিদিন/নাজমুল

Exit mobile version