‘অকার্যকর’ ৫ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

24 Live Newspaper

দেশের পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক সক্ষমতা হারানোয় অকার্যকর ঘোষিত এই ব্যাংকগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন, এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোকে একাধিক চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। এখন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসক দলই ব্যাংকগুলো পরিচালনা করবে এবং এগুলোকে একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, এই ব্যাংকগুলোর কোনো কর্মীর চাকরি যাবে না এবং আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। চলতি মাসে গ্রাহকরা নিজ নিজ অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৭ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৯৮ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামীর ৯৫ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামীর ৬২ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং এক্সিম ব্যাংকের ৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ ঋণ বর্তমানে খেলাপি।

এই পাঁচটি ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা ৭৬ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে। ব্যাংকগুলোতে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। এস আলম গ্রুপ চারটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি-র তৎকালীন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এক্সিম ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করতেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠিতে জানানো হয়, ব্যাংকগুলো আয় দিয়ে নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতেও অক্ষম হয়ে পড়েছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক সংকটের জন্য এস আলম, নাসা, সিকদার ও বসুন্ধরা গ্রুপকে দায়ী করা হয়েছে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ৬ হাজার ৭০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির জন্য এস আলম গ্রুপকে এবং ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামীর সংকটের পেছনেও একই গ্রুপকে দায়ী করা হয়। এক্সিম ব্যাংকের ক্ষেত্রে নাসা, বেক্সিমকো ও এস আলমসহ কয়েকটি গ্রুপ দায়ী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

একীভূত করার পর ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে নতুন একটি ব্যাংক গঠন করা হবে, যার মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা জোগান দেবে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে দেওয়া হবে। গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘একীভূত ব্যাংকটি হবে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক। এটি সরকারি মালিকানাধীন হলেও পরিচালিত হবে বেসরকারিভাবে।’ এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দুই বছরের বেশি সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাঁচজন নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালককে ব্যাংকগুলোর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এক্সিম ব্যাংকের দায়িত্ব পেয়েছেন শওকাতুল আলম, সোশ্যাল ইসলামীর সালাহ উদ্দিন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামীর মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, গ্লোবাল ইসলামীর মো. মোকসুদুজ্জামান এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের দায়িত্ব নিয়েছেন মোহাম্মদ আবুল হাসেম। তারা নিজ নিজ ব্যাংকে গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।