যে তৈল নারীকে বানায় পুরুষ

বিশ্ব বাজারে তেলের দাম এখন সর্বনিম্নে অবস্থান করছে । অথচ তার কোন এডভানটেইজ বা সুবিধা এদেশের মানুষের কপালে জুটছে না। তবে তৈল মর্দনের এক ঐতিহাসিক ও অপূর্ব প্রয়োগ এদেশের জনগণ উপভোগ করেছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেছেন, ” বাংলাদেশে একটাই পুরুষ আছে। তিনি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতি সপ্তাহের মন্ত্রিপরিষদের সভায় বসেই তা বুঝতে পারি । “

তিনি বলেন, ” মন্ত্রী পরিষদের সভায় বসলে মনে হয় বাকি আমরা সবাই অন্যকিছু।”

কী মনে করে তিনি এই কথাটি বললেন এবং কেন তাদের নিজেদেরকে ‘অন্যকিছু ‘ মনে হয় তা স্পষ্ট মালুম হচ্ছে না। এটা এমন এক মারাত্মক তেল যা একজন নারীকেও ‘পুরুষ’ বানিয়ে ফেলতে পারে । আর পুরুষদেরকে বানায় ‘অন্যকিছু’ । এই ‘অন্যকিছুর’ও কিন্তু কিছু নাম আছে। তৈল মর্দনে ব্যস্ত মন্ত্রী মহোদয়ের বোধহয় বিষয়টি খেয়ালে আসে নি।

এই মন্ত্রী মহোদয় কয়েকদিন আগে প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন । কাজেই এটি প্রি-প্রমোশন নয়, বলা যায় পোষ্ট প্রমোশন তৈল মর্দন।

সবকিছু দেখে মনের গহীন থেকে একটা চিৎকারই ভেসে আসে , এই কিছিমের মন্ত্রীদের লইয়া ( যারা পুরুষ নয়, অন্যকিছু) আমরা কতদূর অগ্রসর হইতে পারিব ?

তবে তার এই তৈল মর্দনটি একটু অন্যভাবে মনের মধ্যে ধাক্কা দিয়েছে। এটি কর্ণকূহরে প্রবেশের পর কিছু না লিখেও যেন মনে শান্তি পাচ্ছিলাম না। একটা প্রশ্ন মনের মধ্যে বার বার উদয় হচ্ছে, মন্ত্রী কাম স্থপতি মহোদয় নির্ভেজাল খাটি কথাটিই কি বলে ফেলেছেন ? ডজন কয়েক মহাপুরুষ সহ দেশের তাবদ পুরুষকূল কি সত্যিকার অর্থেই নপুংশক হয়ে পড়েছে ?

বছর কয়েক আগে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত একটু ভিন্ন সুরে বলেছিলেন, বাঘে ধরলে ছাড়ে, হাছিনা ধরলে ছাড়ে না।এই কথাটি বলেছিলেন দেশের অন্যতম শক্তিসালী পুরুষ (?) ডঃ ইউনূসকে লক্ষ করে।

এই ধরনের সাব্বাশ দিতে দিতে তাকে (বেগম জিয়ার কথামত) লেডি হিটলার বানিয়ে ফেলা হয়েছে। দেশ থেকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুরাপুরি উধাও হয়ে গিয়েছে। এই কাজে সহযোগিতা করছে পৌরুষত্ববিহীন এক শ্রেণীর পলিটিশিয়ান ও মগজবিহীন এক শ্রেণীর তথাকথিত বুদ্ধিজীবীর দল।

একজন ব্যক্তি মানুষের ব্যক্তিগত ক্ষমতা লিপ্সার কাছে বলি হচ্ছে আমাদের সকল সুখ ও সম্ভাবনা।

১৯৭১,১৫ই আগষ্ট ও ২১শে আগষ্ট সহ সব কিছুই ব্যবহৃত হচ্ছে বাকশালের জালানি (কাঠখড়ি) হিসাবে। কারণ এগুলি জালিয়েই আজ বাকশাল নামক আপদটি জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে।

জানি না, এই হতভাগা জাতিকে উদ্ধার করার জন্যে সেই পুরুষটি কখন অাসবে কিংবা দেশের তাবদ পুরুষকূল তাদের হারানো পৌরুষত্ব আবার কখন ফিরে পাবে ?

এমন একটি মহৌষধ কি আবারো বানানো যায় না?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *