এই দিনে না কাঁদলেও জাতিকে সামনে অনেক কাঁদতে হবে

এই দিনে না কাঁদলেও জাতিকে সামনে অনেক কাঁদতে হবে
==========================
সকালে ঘুম থেকে উঠেই অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী এক বন্ধুর ম্যাসেজ পাই । বন্ধুর অনুরোধ , দোস্ত বিডিআর হত্যাকান্ড নিয়ে কিছু লেখ্ । বন্ধুটি আজ তার নিজের পেইজে লিখেছে ,
” আমাদের দেশের কিছু কিছু খুব বড় মাপের (?) সাহিত্যিক আছেন যারা ছোট খাট বিষয় নিয়ে (বই মেলায় অনিয়ম ইত্যাদি) লিখে কলমে ফেনা উঠিয়ে ফেলেন। কিন্তু কিছু কিছু বিষয় নিয়ে কিছু লিখেন না। যেমন বি ডি আর বিদ্রোহ। এত জন প্রতিভা বান সেনা অফিসার প্রাণ হারালেন, দেশের সেনা বাহিনী পঙ্গু করে দেয়া হল এ দিনে, তাঁদের কলম কিন্তু এই বিষয়ে রহস্য জনক ভাবে চুপ।
আমরা ছোট মাপের মানুষ। আমাদের দোয়া রইল সেই সব সেনা অফিসারদের আত্মার মাগফেরাতের জন্য আর তাঁদের পরিবারদের জন্য।”
দেশের বড় বড় হৃদয়ে এই ধরণের ভাবনার উদয় না হলেও আমার এই বন্ধুর মত ( মার্চেন্ট নেভির কাপ্তান ) ছোট ছোট হৃদয়ে এই ভাবনাগুলি উদয় হচ্ছে। এই সব সাধারণ মানুষের আবেগ অনুভূতি দেখেই হয়তো শহীদদের আত্মা আজ শান্তি পাচ্ছেন ।

কে বলে আমাদের বড় বড় কবি-সাহিত্যিক-লেখক-কলামিস্ট -সম্পাদক সাহেবদের হৃদয় ছোট ? ঈদুল আজহায় কোথাও একটা গরু কোরবাণী করা দেখে ফেললে এরা সারা রাত ঘুমুতে পারেন না । মন খারাপ করে বেগম সাহেবানও রান্না বন্ধ করে দেন । তখন ছেলেমেয়েরা বন্ধুদের নিয়ে বিদেশী রেষ্টুরেন্টে ফ্রজেন মাংসের খাবার খেতে যায় । আদরের মেয়েটি বিফ বার্গারে কামড় দেয় আর বয়ফ্রেন্ডকে বাবামায়ের পশুপ্রেমের কাহিনী শোনায় ।
শুধু তাই নয় , ইন্ডিয়া থেকে বন্যার পানিতে একটি হাতি ভেসে আসলেও হৃদয় এদের কত্তো বড় তা দেখার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছে।
কাজেই ২৫শে ফেব্রুয়ারীতে নীরব থাকলেও তাদের বিশাল হৃদয় সম্পর্কে জনগণ ভুল বুঝবে না । তাছাড়া এগুলি নিয়ে রাজাকার ভাবাপন্ন মানুষই বেশী খোচাখুচি শুরু করেছে ।

গত বছরের পিলখানা হত্যাকান্ড উপলক্ষ্যে আমার লেখার শিরোনাম ছিল , “মাথায় কত প্রশ্ন আসে দিচ্ছে না কেউ জবাব তার” । এই ধরনের জবাব না পাওয়া প্রশ্ন দিন দিন আরো বেড়েই যাচ্ছে । সেই সব প্রশ্নের কয়টিই বা উল্লেখ করা যাবে ?

ইন্ডিয়ার কোনও বন্দরে কোন অভাগা বাংলাদেশী মেরিনার অগত্যা রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেও স্থলে নামার ভিসা মিলে না । দুয়েকটা ঘটনায় জাহাজ মালিককে অনেক টাকা খরচ করে ডাক্তারকে জাহাজে পাঠাতে হয়েছে । কারণ এই নিরীহ জাহাজী ( কলবে সর্বক্ষণ জয়বাংলা জিকির থাকলেও) মহাপরাক্রান্ত ইন্ডিয়ার জন্যে সিকিউরিটি থ্রেট হিসাবে বিবেচিত হন ! কিন্তু সেই ইন্ডিয়ার এম্বাসি আমাদের সেনাবাহিনীর সদস্য ও পরিবার বর্গকে ভিসা দেয়ার নিমিত্তে জাতির বেডরুম হিসাবে বিবেচিত ক্যান্টনমেন্টে চলে গেছেন । রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা অত্যন্ত উৎফুল্ল চিত্তে প্রতিবেশির এই বদান্যতার সুসংবাদটি জাতিকে শুনিয়েছে ।
আসলে পিলখানা হত্যাকান্ডের মাধ্যমেই এই জাতির শরীরে এইডসের জীবাণুটি প্রবেশ করানো হয়েছে । এখন যা দেখা যাচ্ছে তা এইডস রোগের উপসর্গ ।
“জাতীয় বিলাপ কমিটি” র লিষ্ট থেকে পিলখানা হত্যাকান্ডটি বাদ পড়ে গেছে কিংবা তালিকার খুব নিচের দিকে রয়েছে । কারণ এই বিলাপ কমিটির লিষ্ট ধরেই এই জাতিকে বিলাপ করতে হয় । কোনও একজন নাসিরুদ্দীন ইউসুফ এসে ধরে ধরে বলে দিবেন কোন বিষয়ে বিলাপ করতে হবে । জাফর ইকবালের মত কোনও বিজ্ঞানী এসে জানিয়ে দিবেন যে কোন বিলাপে কত ডেসিবেল শব্দ উৎপন্ন করা যাবে ।

আমার এই জাহাজী দোস্তটি ঠিকই আঁচ করেছে – এরা কখনই ২৫শে ফেব্রুয়ারি নিয়ে কোনদিন একটা শব্দও লিখবে না ।

মনটা সত্যিই আজ বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে । বন্ধুর অনুরোধে লিখতে বসেছি । লেখার সবকিছু কেমন যেন এলেমেলো হয়ে যাচ্ছে । ভেতরের বোবা কান্নাটি আরো তীব্র , আরো ঘনীভূত , আরো অসহনীয়র হয়ে পড়ছে । আমাদের চারপাশে কারো হাতে সান্ত্বনার চকোলেট , কারো কারো হাতে সুখের ক্যালকুলেটর ।দেশ , জাতিকে বাদ দিয়ে নিজ নিজ সঙ্গীনির গলায় ধরে নিজের সুখের হিসাব কষছেন । জবাইয়ের আগে কোরবানীর পশুটিকে খুব যত্ন সহকারে খাওয়ানো হয় । সেই যত্ন দেখেই সামনের কোরবানীর কথাটি বোধহয় বেমালুম ভুলে যায় ।
একুশে ফেব্রুয়ারীর চেয়েও কম বেদনাদায়ক নহে এই ২৫শে ফেব্রুয়ারী। ২১শে ফেব্রুয়ারীর শত্রুকে চিহ্নিত করতে সময় লাগেনি । আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী , আমি কি ভুলিতে পারি ? এই প্রশ্ন নিয়ে সেদিন রাস্তায় নামতে তখনকার প্রজন্ম কোনও অপশক্তির রক্তচক্ষুকে ভয় পায় নি ।
কিন্তু আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২৫শে ফেব্রুয়ারীকে নিয়ে তেমন কিছু চোখে পড়ে না । এই ধরনের কোনও গান নিয়ে আমরা কোনও প্রভাত ফেরি করার কথা চিন্তাও করি না । এদের জন্যে দ্বিতীয় শহীদ মিনার তৈরি আমাদের ভাবনাতেও আসছে না । আমাদের দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের ছিলছিলা ১৯৭১ সালেই বন্ধ হয়ে গেছে । এই দেশে আর কোনও বীরশ্রেষ্ঠ জন্মাবে না । এই দেশের উপর আর কোনদিন কারো কোন লোভাতুর চোখ পড়বে না ।
এসব দেখে মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে , বর্তমান প্রজন্মের মত একটা প্রজন্ম যদি ১৯৭১ সালে এদেশে থাকতো , তবে কি আমরা কখনো এই দেশটিকে পাকিস্তানের কবল থেকে স্বাধীন করতে পারতাম ?
আদৌ কি তা পারতাম ?

Image may contain: 1 person
Image may contain: one or more people

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *